Search

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ, কারণ এই ভাষণ ছিল বিশ্বের শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের ভাষণ। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন বক্তারা।

৭ই মার্চ সোমবার জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবী এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রানা হাসান মাহমুদ। আলোচনা সভায় আলোচক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদক প্রাপ্ত লেখক ডঃ নুরুন নবী ও প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দও এই সভায় সংযুক্ত হন। সভার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর উপর যুক্তরাষ্ট্রের একসময়ের স্বনামধন্য সাংবাদিক পিটার জেনিংসের ধারাবর্ণনায় একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা সভায় ডঃ নুরুন নবী জাতির জনকের ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন এবং ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে নিজের উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি বলেন পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর পরেই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানের যে স্ট্রাকচার, তাতে বাঙালীদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। তখন তিনি পরিকল্পনা করতে থাকেন কিভাবে বাঙ্গালীদের অধিকার আদায়ে এগিয়ে যাওয়া যায়। তারপর তিনি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন পেছন থেকে এবং তখনি তিনি বাঙালী জাতীয়তাবাদের বীজ রোপণ করেন। সেই থেকে শুরু করে বাঙ্গালী জাতির অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু এবং সেই আন্দোলন সংগ্রামের চূড়ান্ত রূপ হচ্ছে ৭ই মার্চ, যেই ৭ই মার্চের ভাষণে ৭ কোটী বাঙালীকে একত্রিত করতে পেরেছিলেন।

সংগঠনের উপদেষ্টা প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে মাত্র ১৮ মিনিটের অলিখিত ভাষণে বঙ্গবন্ধু শুধু দেশের স্বাধীনতা অর্জনের দিক নির্দেশনাই দিয়ে যাননি, স্বাধীনতা পরবর্তী অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির কথাও তিনি বলে গেছেন। এই ভাষণ আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণের একটি। অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ। এটি ইউনেসকোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা গোটা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গর্বের। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় বঙ্গবন্ধুকে আমরাই রক্ষা করতে পারিনি, এটা আমাদের বাঙালীদের ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে, তিনি তার পিতার স্বপ্নপূরণ করছেন অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে।

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বীর প্রতীক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহেদুল আহমেদ জামী ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ এবং পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন। উনারা যুদ্ধের সময় বিভিন্ন অপারেশনের কথা বর্ণনা করেন এবং বলেন অত্যন্ত অল্প বয়সে জীবনের মায়া ত্যাগ করে তারা যুদ্ধে গিয়েছিলেন একমাত্র বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে। আজকে যারা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে মানতে চায় না, বাংলাদেশে তাদের থাকার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেন নেতৃবৃন্দ।

সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা এম এ সালাম, সহসভাপতি যতাক্রমে রাফায়েত চৌধুরী, ফাহিম রেজা নূর ও জাকারিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া, কোষাধ্যক্ষ মাহাবুব রহমান ভুঁইয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক দস্তগির জাহাঙ্গীর। সভায় আরও সংযুক্ত ছিলেন উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহদাৎ হাসান, সহসভাপতি যতাক্রমে সফেদা বসু বিন্দু,, আবু নাসের রাজীব, নজরুল আলম ও আব্দুর রহিম বাদশা, বিশেষ প্রকল্প সম্পাদক শাখাওয়াত আলী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মতিউর রহমান সিমু, প্রমুখ ।

1 view0 comments